স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের প্রাতিষ্ঠানিক উৎস

বহিস্থ অর্থায়নের দীর্ঘমেয়াদি উৎস

প্রাপ্য বিল বাট্টাকরণ

পণ্য যখন বাকিতে ক্রয় করা হয়, তখন ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বিক্রেতাকে একটি দলিলের মাধ্যমে এই মর্মে অঙ্গীকার করে যে নির্দিষ্ট মেয়াদ (সাধারণত তিন মাস) শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশােধ করবে। এই দলিলকে বিনিময় বিল বলা হয়। বিক্রেতার কাছে এই বিলটি একটি প্রাপ্য বিল। এই ধরনের বিল বাণিজ্যিক ব্যাংকে ভাঙ্গিয়ে বা বাট্টা করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করা যায়।

ধরা যাক, একজন ক্রেতা জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ৫০০ টাকার পণ্যদ্রব্য বাকিতে ক্রয় করে বিক্রেতাকে বিনিময় বিল নামক দলিলে এই মর্মে অঙ্গীকার করে যে, সে মার্চ ৩০ তারিখের মধ্যে বিক্রেতাকে বা দলিলের বাহককে ৫০০ টাকা পরিশােধে বাধ্য থাকবে। এ অবস্থায় বিক্রেতার যদি এখনই অর্থের প্রয়ােজন হয়, তখন বিক্রেতা এই বিনিময় বিলটিকে মেয়াদ পূর্তির পূর্বেই যেকোনাে ব্যাংকের কাছে বিক্রয় করে বিনিময় বিলের সমমূল্য থেকে কিছু কম যেমন: ৫০০ টাকার বিলে বার্ষিক ৮% বাট্টার হারে ৪৯০ টাকা নগদ সংগ্রহ করতে পারে।

প্রদেয় বিল

উপরের উদাহরণে বিনিময় বিল বিক্রেতার দৃষ্টিতে একটি প্রাপ্য বিল, যা ক্রেতার দৃষ্টিতে প্রদেয় বিল ও একটি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের উৎস। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যখন কাঁচামাল, উৎপাদনসামগ্রী ইত্যাদি বাকিতে ক্রয় করে, তখন সাময়িক সময়ের জন্য ব্যবসায়ে অর্থসংস্থান হয়। কারণ বাকিতে ক্রয়ের সুবিধা না পেলে নগদে পণ্য ক্রয় করতে অর্থের প্রয়ােজন হতাে, যার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদসহ ফেরত দিতে হতাে।

স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ

স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণ একটি প্রধান উৎস। এ ধরনের ব্যাংক ঋণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন: সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ান্তে সুদসহ আসল একসাথে পরিশােধ করা হয়। অনেক সময় ব্যাংক ঋণগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ঋণের আংশিক বা সম্পূর্ণ অংশ পরিশােধে উৎসাহ প্রদানের নিমিত্তে মােট পরিমাণের উপর কিছু ছাড় প্রদান করে।

যেমন: একজন ঋণ গ্রহীতার ৬ মাস পর প্রদেয় ৬০০০ টাকা মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই পরিশােধ করার জন্য যদি ব্যাংক তাকে মােট টাকার ২% ছাড় দেয় তাহলে ঋণগ্রহীতা ব্যাংককে ৫,৮৮০ টাকা প্রদান করবে। এছাড়া ঋণগ্রহীতা যদি নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে ঋণ পরিশােধের অঙ্গীকার না করে ব্যাংক চাওয়া মাত্রই ঋণ ও পরিশােধের শর্তে ঋণ গ্রহণ করে, তবে সেটিকে চাহিবামাত্র প্রদেয় ঋণ বলা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের বিকল্প উৎস আছে তারা স্বল্প খরচে এই উৎস ব্যবহার করতে পারে।

ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন

স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের আর একটি উৎস ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলন । সব প্রতিষ্ঠানই মূলত চলতি হিসাবের মাধ্যমে পাওনা আদায় ও দেনা পরিশােধ করে থাকে। এ ধরনের ব্যাংক হিসাব সাধারণত মক্কেলকে বা প্রতিষ্ঠানকে জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সুযােগ প্রদান করে, তবে জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ব্যাংক সীমাবদ্ধ করে দেয়। সাধারণত যেসব প্রতিষ্ঠানে বছরের কিছু সময়ে বিক্রয় কমে যায়, সেই সময়ে এ ধরনের উৎস থেকে অর্থায়ন একটি বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরি সারা বছর তার উৎপাদন, গুদামজাতকরণ, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যে অর্থব্যয় করে কিন্তু মূলত গ্রীষ্মকালে আইসক্রিম বিক্রি বেশি হয়, ফলে বছরের অন্যান্য সময়ে অর্থায়নের জন্য এই উৎসটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশােধ না হওয়া পর্যন্ত ঋণের সুদ প্রদান করতে হয়, কিন্তু এ ধরনের ঋণের সুদ শুধু যখন থেকে জমাতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ ব্যবহার করা হয়, কেবল তখন থেকেই সুদ দিতে হয়। তবে এ ধরনের ঋণের সুদের হার অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে বেশি এবং এটি ব্যাংক চাওয়ামাত্রই ঋণগ্রহীতাকে পরিশােধ করতে হয়।

ক্ষুদ্র ঋণ

এ ধরনের ঋণ সাধারণত কৃষিনির্ভর ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণের নিমিত্তে প্রদান করা হয়। যেমন: কুটির শিল্প ব্যবস্থাপনা, কৃষি উপাদান ক্রয়, হ্যাচারি বা খামার পরিচালনা ইত্যাদি। গ্রামীণ ব্যাংক, যুব উন্নয়ন ব্যাংক, সমবায় ব্যাংকগুলাে এ ধরনের ঋণ প্রদান করে থাকে। এই ঋণগুলাে ধাপে ধাপে উদ্দেশ্য অর্জনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়।

স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের প্রাতিষ্ঠানিক উৎস

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Scroll to top