সরকারের ধারণা : সরকার রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সরকার ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হয় না। সরকারের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে সরকার তিন ধরনের কাজ সম্পাদন করে। যথা-আইন প্রণয়ন, শাসন পরিচালনা ও বিচার-সংক্রান্ত। এ তিন ধরনের কাজ সম্পাদনের জন্য সরকার এর তিনটি বিভাগ রয়েছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।

আইন বিভাগ দেশের প্রয়ােজনীয় আইন তৈরি করে, সেই আইন প্রয়ােগ করে শাসন বিভাগ সুষ্ঠুভাবে শাসন কার্য পরিচালনা করে এবং বিচার বিভাগ অপরাধীকে শাস্তি দেয় এবং নিরপরাধীকে মুক্তি দিয়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। অতএব সরকার বলতে সেই জনগােষ্ঠীকে বােঝায়, যারা রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন পরিচালনা ও বিচার প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। সরকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।

রাষ্ট্র ও সরকারের সম্পর্ক

প্রাচীনকালে রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে কোনাে পার্থক্য করা হতাে না। ফ্রান্সের চতুর্দশ লুই বলতেন, আমিই রাষ্ট্র। আধুনিককালে রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, নিমে সেগুলাে বর্ণিত হলাে

১. গঠনগত : জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব-এ চারটি উপাদান নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়। সরকার উক্ত চারটি উপাদানের মধ্যে একটি অন্যতম উপাদান, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
২. জনসমষ্টি : রাষ্ট্র গঠিত হয় দেশের সব জনগণ নিয়ে। আর সরকার গঠিত হয় আইন, শাসন ও বিচার বিভাগে নিয়ােজিত ব্যক্তিদের নিয়ে।
৩. স্থায়িত্ব : রাষ্ট্র স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সরকার অস্থায়ী এবং পরিবর্তনশীল। জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এবং রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে সরকার পরিবর্তিত হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের পরিবর্তন হয় না। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ সরকারের পরিবর্তন হয়েছে বহুবার কিন্তু রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের কোনাে পরিবর্তন হয়নি।
৪. প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য : বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অভিন্ন। কিন্তু সরকারের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন। যেমন- বাংলাদেশে রয়েছে সংসদীয় সরকার, আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।
৫. সার্বভৌমত্ব : রাষ্ট্র সার্বভৌম বা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। সরকার সার্বভৌম ক্ষমতার বাস্তবায়নকারী
৬. ধারণা : রাষ্ট্র একটি বিমূর্ত ধারণা। রাষ্ট্রকে দেখা যায় না, কল্পনা বা অনুধাবন করা যায়। কিন্তু সরকার মূর্ত। কারণ, যাদের নিয়ে সরকার গঠিত হয়, তাদের দেখা যায় ।

আরো পড়ুন :   পরিবার কি | পরিবারের শ্রেণিবিভাগ | পরিবারের কার্যাবলি

সুতরাং রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে উল্লেখিত পার্থক্য থাকলেও আমরা বলতে পারি, উভয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ । একটিকে ছাড়া অন্যটির কথা কল্পনা করা যায় না। রাষ্ট্রকে পরিচালনার জন্যই সরকার গঠিত হয়।

অনুশীলনী বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১। নাগরিকতার স্থানীয় বিষয় কোনটি?
ক) পৌরসভা
খ) আইন সভা
গ) কমনওয়েলথ
ঘ) জাতিসংঘ

২। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
ক) জনসমষ্টি
খ) ভূখণ্ড
গ) সরকার
ঘ) সার্বভৌমত্ব

৩। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকট ঐশী মতবাদ বিপজ্জনক মনে হওয়ার কারণ, এখানে শাসক
i. তার কাজের জন্য একমাত্র বিধাতার নিকট দায়ী থাকেন।
ii. নিজেই একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান অপরদিকে ধর্মীয় প্রধান।
iii. নিজেকে স্রষ্টার প্রতিনিধি মনে করেন।
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) ii ও iii
গ) i ও iii
ঘ) i, ii ও iii

আরো পড়ুন :   তথ্য অধিকার আইন | তথ্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়া | তথ্য প্রদান পদ্ধতি

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
নুরজাহান বেগম অবসর সময়ে বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন। এ কাজে তার ভালাে লাভ হয়। জামিলা তার কাছে ঝুড়ি তৈরি করা শিখে নিজের পরিবারের ব্যবহারের জন্য ঝুড়ি তৈরি করেন।

৪। নুরজাহান বেগমের কাজটি পরিবারের কোন ধরনের কাজ?
ক) শিক্ষামূলক
খ) বিনােদনমূলক
গ) অর্থনৈতিক
ঘ) মনস্তাত্ত্বিক

৫। নুরজাহান বেগমের কাজটির ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সর্বাধিক প্রযােজ্য
ক) শুধু নিজের সচ্ছলতা বৃদ্ধি করে।
খ) তার গ্রামের মানুষদের কর্মক্ষম করে তােলে
গ) বাঁশের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে
ঘ) আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে

সৃজনশীল প্রশ্ন

১। ক ও খ রাষ্ট্রের অবস্থান পাশাপাশি। ক’ রাষ্ট্র তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্র ‘গ’ কে যুদ্ধে পরাজিত করে দখল করে নেয়। ‘খ’ রাষ্ট্র তার পার্শ্ববর্তী অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলােকে পারস্পরিক সহযােগিতা দানের মাধ্যমে কালক্রমে সকলে মিলে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
ক. দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশাে রাষ্ট্র সৃষ্টির কোন মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন?
খ. রাষ্ট্রের চরম ক্ষমতা কোনটি? ব্যাখ্যা কর।
গ. ‘ক’ রাষ্ট্র কর্তৃক ‘গ’ রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির যে মতবাদকে সমর্থন করে তার ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. ‘খ’ রাষ্ট্রের শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পেছনে যে মতবাদের ধারণা রয়েছে। সেটিই অধিক গ্রহণযােগ্য মতবাদ-বিশ্লেষণ কর।

২। পারভেজ দম্পতি দুজনেই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের একমাত্র পুত্র রিপনকে ছােটবেলা থেকেই হােস্টেলে রেখে পড়াশুনা করান। ছুটিতে বাড়ি আসলেও ব্যস্ততার কারণে মা-বাবা রিপনকে বেশি সময় দিতে পারেন নাই । বেশিরভাগ সময় একা থাকাতে সে তার নিজের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা কারও সাথে ভাগাভাগি করতে পারে না এবং অন্যের সুখ-দুঃখেও আনন্দ কিংবা কষ্ট পায় না। একদিন তিনি রমিজ সাহেবের বাসায় বেড়াতে গেলে তার ছেলে রবিন দরজা খুলেই সালাম দেয়। তাকে সম্মানের সাথে বসিয়ে বাবাকে ডেকে দেয় এবং নিজেই চা, নাস্তা নিয়ে আসে। পারভেজ তাকে দেখে মুগ্ধ হন এবং নিজের ছেলেকে এভাবে গড়ে তুলতে পারেন নাই ভেবে মনে মনে কষ্ট পান।
ক. পারিবারিক কাঠামাে অনুযায়ী পরিবার কত প্রকার?
খ. আত্মসংযমের শিক্ষা পরিবারের কোন ধরনের কাজ? ব্যাখ্যা কর।
গ. রিপনের মানসিক বিকাশ সমৃদ্ধ না হওয়ায় পরিবারের যে কাজটি ব্যাহত হয়েছে তার ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. ছেলেমেয়েদের সঠিকভাবে গড়ে তােলার জন্য জনাব রমিজের পরিবারের যে কাজটির ভূমিকা রয়েছে তার গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।