আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

মিখাইল গর্বাচেভের উত্থান-পতন

ইতিহাসের এক দ্বৈত চরিত্র মিখাইল গর্বাচেভ। একদিকে যিনি হঠাৎ উদ্ভাসিত নায়ক অন্যদিকে, ক্রমাগত ডুবে যাওয়া বিতর্কিত রাজনীতিবিদ। ৩০ আগস্ট ২০২২ সােভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

পুরাে নাম মিখাইল সের্গেইভিচ গর্বাচেভ
জন্ম ২ মার্চ ১৯৩১
মৃত্যুবরণ ৩০ আগস্ট ২০২২
সুপ্রিম সােভিয়েতের চেয়ারম্যান ২৫ মে ১৯৮৯-১৫ মার্চ ১৯৯০
সােভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ১৫ মার্চ ১৯৯০-২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১
গ্লাসনস্ত (Glasnost) ও ‘পেরেস্রোইকা (Perestroika) নীতির প্রবর্তক
সােভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম ও একমাত্র প্রেসিডেন্ট ও ১৯৯৬ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে এক শতাংশেরও কম ভােট পান
সােভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ নেতা।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের স্তাভরােপােল শহরে। মিখাইল গর্বাচেভের জন্ম। তার মা-বাবা দুজনেই যৌথ কৃষি খামারে কাজ করতেন। কৈশােরে গর্বাচেভ ফসল কাটার কাজ করতেন। ১৯৫৫ সালে মস্কো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক শেষ করেন গর্বাচেভ। সে সময়ই কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হন।

গর্বাচেভ ১৯৭৮ সালে সেন্ট্রাল কমিটিজ সেক্রেটারিয়েট ফর অ্যাগ্রিকালচারের সদস্য হিসেবে মস্কোয় যান। দুই বছর পর পলিটব্যুরাের পূর্ণ সদস্য হিসেবে নিয়ােগ পান। বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ার নেতৃত্বে ৩০ ডিসেম্বর ১৯২২ সালে গঠিত হয় Union of Soviet Socialist Republics (USSR) বা সােভিয়েত ইউনিয়ন।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী থেকে আরো পড়ুন

কমিউনিস্ট নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের গড়া সােভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৯১ সালে ভেঙে ১৫টি জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠে, তার মধ্যে অন্যতম আজকের রাশিয়া। একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর সােভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তির দিন গর্বাচেভ পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিশ্বে চার দশক ধরে চলা স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি হয়। ১৯৯০ সালে গর্বাচেভ ‘নােবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

পেরেস্রোইকা ও গ্লাসনস্ত নীতি

সােভিয়েত ইউনিয়নের সংস্কারের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ১৯৮৬ সালে মিখাইল গর্বাচেভ গ্লাসনস্ত (উন্মুক্ততা) এবং পেরেস্রোইকা (পুনর্গঠন) নীতি গ্রহণ করেন। গ্লাসনস্ত অনুযায়ী, সােভিয়েতরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়। আর পেরেস্রোইকা অনুযায়ী, ভঙ্গুর সােভিয়েত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়। গর্বাচেভ সােভিয়েত ইউনিয়নকে। পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন কিন্তু এটি দেশের অনেক অঞ্চলের মানুষের। জাতীয়তাবাদী মনােভাব প্রকাশ করে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে পতনের দিকে নিয়ে যায়। এজন্য বহু । রাশিয়ান তাকে ও তার সংস্কারবাদী নীতিকে সােভিয়েত ইউনিয়ন পতনের জন্য দায়ী করে।

সোভিয়েত ইউনিয়নে গর্ভাচেভ

  • ১১ মার্চ ১৯৮৫ : গর্বাচেভ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন।
  • ১৯-২০ নভেম্বর ১৯৮৫ : সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রথমবারের মতাে বৈঠকে বসেন গর্বাচেভ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রােনাল্ড রিগ্যান।
  • ২৬ এপ্রিল ১৯৮৬ : ইউক্রেনের চেরনােবিল পারমাণবিক চুল্লিতে বিস্ফোরণে ইউরােপজুড়ে ‘তেজস্ক্রিয় মেঘ’ ছড়িয়ে পড়ে।
  • ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৭ : ওয়াশিংটনে গর্বাচেভ ও রিগ্যান INF চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
  • ১ অক্টোবর ১৯৮৮ : জাতীয় আইনসভা সুপ্রিম সােভিয়েতের সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হয়ে গর্বাচেভ ক্ষমতা সুসংহত করেন।
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ : আফগানিস্তানে সােভিয়েত বাহিনীর অভিযানের সমাপ্তি।
  • ২৩ ডিসেম্বর ১৯৮৯ : মাল্টায় বৈঠকে মিলিত হন গর্বাচেভ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ।
  • ৩ অক্টোবর ১৯৯০ : ছয় শক্তির আলােচনার পর পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি আবার একত্রীকরণ হয়।
  • ১৭ মার্চ ১৯৯১ : সােভিয়েত ইউনিয়নকে নতুন ‘সম সার্বভৌম প্রজাতন্ত্রের ফেডারেশন’ হিসেবে রেখে দেওয়ার গণভােট প্রস্তাবে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
  • ১ এপ্রিল ১৯৯১ : পূর্ব ইউরােপের দেশগুলাের সামরিক জোট ওয়ারশ প্যাক্ট তথা ওয়ারশ চুক্তি ভেঙে দেওয়া হয়।
  • ১৯ আগস্ট ১৯৯১ : গর্বাচেভের কথিত অসুস্থতার কথা বলে তার ডেপুটি গেনাদি ইয়ানায়েভ কট্টর কমিউনিস্ট জান্তার প্রধান হয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
  • ২২ আগস্ট ১৯৯১: সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়।
  • ২৪ আগস্ট ১৯৯১: গর্বাচেভ কমিউনিস্ট পার্টির নেতার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
  • ৮ ডিসেম্বর ১৯৯১ : কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস নামক সংস্থার আত্মপ্রকাশ।
  • ২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ : গর্বাচেভ সােভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
  • ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯১ : আনুষ্ঠানিকভাবে USSR’র বিলুপ্তি ঘটে। সাবেক সােভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি রাষ্ট্র গঠিত হয়। রাষ্ট্রগুলাে—কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, বেলারুশ, আজারবাইজান, রাশিয়া, ইউক্রেন, মলদোভা, লিথুয়ানিয়া, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, লাটভিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও এস্তোনিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button