প্রবন্ধ আলোচনা

বৈশ্বিক খাদ্য সংকট

দু’বছর করােনা মহামারির পর সম্প্রতি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষভাবে, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলােতে এ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

সূচনা-প্রসঙ্গ

মৌলিক চাহিদার প্রথম ও প্রধান উপাদান খাদ্য, যাকে ঘিরে আবর্তিত হয় মনুষ্য-সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াকলাপ। আভিজাত্যপূর্ণ জীবন না হলেও চলে, কিন্তু খাদ্য ছাড়া প্রাণধারণ সম্ভব নয়। পৃথিবীজুড়ে বিরাজমান যুদ্ধবিগ্রহ, দ্বন্দ্ব, সংঘাত, নৈরাজ্য- এমনু নানা কারণে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে খাদ্য উৎপাদন, বণ্টন ও বিনিময় প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। বাংলাদেশও এ গণ্ডির বাইরে নয়, যেখানে আন্তর্জাতিক সংকট প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে।

খাদ্য সংকটের কারণসমূহ

নানা কারণে বর্তমান বিশ্ব খাদ্য সংকটে পড়েছে। যুদ্ধপূর্ব খাদ্য ঘাটতি এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতাকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আরও ত্বরান্বিত করেছে। এর বাইরে আছে মহামারির কারণে সরবরাহ-শৃঙ্খল ভেঙে যাওয়া, কর্মসংস্থান সংকট ও পরিবহন সমস্যা, জলবায়ু-সংকট সম্পর্কিত উৎপাদন হ্রাস, জ্বালানি খরচের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী চলমান অন্যান্য অসংখ্য সংঘাত-সংঘর্ষ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্য উৎপাদন ও এর সরবরাহব্যবস্থায়। যুদ্ধের ফলে গম, ভুট্টা, বার্লি, জ্বালানি ও তেল ও সূর্যমুখী তেলের মতাে প্রধান পণ্যগুলাের প্রাপ্যতা নিয়ে শঙ্কা ও দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিশ্বের অন্যতম প্রধান দানাদার শস্য ; সরবরাহকারী। দেশ দু’টি বিশ্বের মােট চাহিদার প্রায় ৩০% গম সরবরাহ । করে। ইউক্রেন বিশ্বের ২০% ভুট্টা রপ্তানিকারক দেশ। সূর্যমুখী তেল । উৎপাদনে বিশ্বে দেশটির অবস্থান শীর্ষে। রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার রপ্তানিকারক দেশ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক পণ্য ; সরবরাহের শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। এছাড়া রাশিয়া কৃষ্ণসাগর অবরােধ। করে রাখার কারণে ইউক্রেনের পক্ষে উৎপাদিত গম রপ্তানি অসম্ভব হয়ে। পড়েছে। চলমান যুদ্ধের কারণে ২০২২-২৩ সালে ইউক্রেনে খাদ্য। উৎপাদন হ্রাস পাবে। এছাড়া দেশটির ২০-৩০% জমি অনাবাদি থাকবে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জেরে বেড়ে চলা, খাদ্য সংকট বিশ্বকে একটি ‘মানবিক বিপর্যয়’-এর মুখে ফেলে দিয়েছে।

অন্যান্য সংঘাত

সিরিয়া, ইয়েমেন, সােমালিয়া, ইথিওপিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ ও সংঘাত চলমান। সেখানে গত কয়েক বছরে হাজার । ৪ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশগুলাের। কৃষি ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)’র প্রতিবেদন অনুসারে, সহিংসতা পীড়িত আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের ঘটনা ২০১৯ সালের মহামারি পূর্ব সময়ের চেয়ে ১০ গুণ বাড়বে।

উৎপাদন ব্যাহত

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাবারের চাহিদা মেটাতে কৃষক বার বার একই জমিতে অতিরিক্ত ফসল ফলাতে বাধ্য হয়। এছাড়া উৎপাদন বাড়াতে ; কৃষক জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়। এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়। বর্তমানে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত বছর কিছু কিছু দেশে খাদ্যের দামের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক কৃষক উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করেছেন। পটাশ, অ্যামােনিয়া ও ইউরিয়াসহ বিশ্বের রাসায়নিক সারের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া।

পশ্চিমা অবরােধের কারণে সারের জন্য রাশিয়ার প্রতি নির্ভরশীল দেশগুলােতে কৃষি উৎপাদনে সংকট তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে বেলারুশের ওপর আরােপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সারের দাম এরই মধ্যে প্রকারভেদে দ্বিগুণ বা তিন গুণ বেড়েছে। বেলারুশ বিশ্বে পটাশের ১৮% উৎপাদন করে।

এদিকে নিজ দেশে সংকট বেড়ে যাওয়ায় ইতােমধ্যেই সার রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অপর শীর্ষ সার রপ্তানিকারক দেশ চীন। সারসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধি কৃষকদের উৎপাদন থেকে বিরত রাখতে পারে বলে সতর্ক করেছে FAO। কৃষি উৎপাদনের এসব নেতিবাচক সূচক বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

জলবায়ু পরিবর্তন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কৃষি ক্ষেত্রে। কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশগুলাে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়েছে। গত শতাব্দীতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ২৩%, নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ ১৯% এবং মিথেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০০%।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পানি চক্র গাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে ঘন ঘন চরম তীব্র ও বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, নদী ভাঙন, স্বল্প বৃষ্টি, হঠাৎ বৃষ্টি, তাপমাত্রাজনিত পীড়নসহ কৃষি পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে ফসলের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও এবং খাদ্য-পুষ্টির নিরাপত্তাসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন তাই প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্ব পরিস্থিতি

পূর্ব ইউরােপের যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ভুক্তভােগী এশিয়া। ও আফ্রিকার দেশগুলাে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ও বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকা, ইউক্রেন এবং রাশিয়া। থেকে পাঠানাে গমের ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। এ সংকটের পেছনে নিজেদের কোনাে দায় না থাকলেও দেশগুলাে খাদ্যশস্য ও নিত্যপণ্যের ও উর্ধ্বগতি, খাদ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতা হ্রাস, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের মতাে পরিস্থিতি ; মােকাবিলা করছে। দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট।

বিশ্বের অন্তত ২৩টি দেশ খাদ্য রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরােপ করেছে। নিত্য পণ্যের ; দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে দরিদ্র দেশগুলােতে খাদ্য ও নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে। খাদ্য ও সংকটের কারণে বিশ্ব ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষ আর অনাহারের । মতাে বিপর্যয়ের মুখােমুখি হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছে ৪৬টি দেশের চার কোটি ৯০ লাখ মানুষ। তাছাড়া WFP’র কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও ৮১টি দেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে ২৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। ইউক্রেন সংকটের বাস্তবতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৩২ কোটি ৩০ লাখে পৌছাতে পারে। FAO এবং WFP’র হাঙ্গার হটম্পট রিপাের্ট মে ২০২২ অনুযায়ী, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং ইয়েমেন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

আফগানিস্তান এবং সোমালিয়াও উদ্বেগজনক শ্রেণিতে প্রবেশ শৰছে। অনাহারে মারা যেতে পারে এসব দেশের অঞ্চত সাত লাখ ৫০ হাজার মানুষ। প্রতিবেদন অনুযায়ী হটস্পটে প্রবেশ করেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, হাইতি, সাহেল অঞ্চল, সুদান এবং সিরিয়া। অ্যাঙ্গোলা, লেবানন, মাদাগাস্কার এবং ; মােজাম্বিকও রয়েছে এ তালিকায়।

বৈশ্বিক উদ্যোগ

বৈশ্বিক খাদ্য সংকট মােকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ৩০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল ঘােষণা করেছে। এ তহবিল থেকে সংস্থাটির সদস্য দেশগুলােকে। ১২ বিলিয়ন ডলার নতুন প্রকল্পে দেওয়া হবে। বাকি ১৮ বিলিয়ন ডলার চলমান খাদ্য ও পুষ্টিসহায়তা বিষয়ক প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে দরিদ্র দেশগুলাে অগ্রাধিকার পাবে। এসব অর্থায়ন খাদ্য ও সার উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে। সেই সঙ্গে খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃহত্তর বাণিজ্যকে সহজতর করা এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলােকে সহায়তা করবে।

জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী সরকারগুলােকে জানায়, ত্বরিৎ ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে খাদ্য সংকট মােকাবিলা সম্ভব হবে না। আর এটি সম্ভব না হলে সুদীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের কোটি কোটি শিসহ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এজন্য খাদ্য উৎপাদক দেশগুলােতে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ বাড়াতে হবে, কৃষকদের চারা রােপণ এবং ফসলের ফলন বাড়াতে সাহায্য করতে হবে। এছাড়া বৈশ্বিক রপ্তানি ও আমদানি বাধাগ্রস্ত করে, খাদ্য, জৈব জ্বালানির পক্ষে নয়, এমন নীতি অপসারণ করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও করণীয়

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রব্যমূল্য। বিশ্বব্যাপী পণ্যের উৎপাদন ও বিনিময়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার ফলে বাংলাদেশ আমদানির ক্ষেত্রে চরম সংকট মােকাবিলা করছে। বাংলাদেশের কৃষি, বিশেষ করে ধানের উৎপাদন ব্যাপকভাবে সারের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ তার পটাশ চাহিদার প্রায় ৭৫% রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে আমদানি করে।

যুদ্ধের কারণে সারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে অন্য দেশ থেকে পণ্যগুলাে আমদানি করতে হবে এবং এতে বেশি দাম বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতি বৃষ্টি, খরা, বন্যা, জলােচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, শীলাবৃষ্টি ছাড়াও অন্যান্য নানা ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। অপর্যাপ্ত আবাদি জমি, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি ।

বাংলাদেশে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় নগর বনায়ন, ন্যায্য বাজার ব্যবস্থাপনা, মৎস্য আহরণ— এ তিন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্ভাব্য খাদ্য সংকট পরিস্থিতি মােকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি প্রণােদনা প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে ন্যায্যমূল্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিনা মূল্যে কৃষি। উপকরণ সরবরাহ করে যাচ্ছে।

কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে বিনা জামানতে কৃষকদের ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় যা প্রয়ােজন তা হলাে খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে প্রধান খাদ্য চাল, গম, ভােজ্যতেল, দুধ, সার বেশি, করে উৎপাদন করা। সর্বোপরি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় বৈশ্বিক খাদ্য সংকট পরিস্থিতি মােকাবিলা করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, নানা জটিলতা থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইউক্রেনের খাদ্যশস্য স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা। ছাড়া খাদ্য সংকটের কার্যকর কোনাে সমাধান নেই। তাই যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

দুর্ভিক্ষের মুখােমুখি শীর্ষ ৫ দেশ
দেশ দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের সংখ্যা (মিলিয়ন)
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ২৫.৯
নাইজেরিয়া ১৯.৫
ইয়েমেন ১৯
আফগানিস্তান ১৮.৯
ইথিওপিয়া ১৬.৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button