বিসিএস পরীক্ষায় ভাইবা বোর্ডে প্রবেশের ড্রেস কোড কেমন হবে জানুন।

Recent General Knowledge Bangladesh and International Affairs

বিসিএস পরীক্ষায় ভাইভ বোর্ডের প্রস্তুতি যেভাবে নেবেন সে সম্পর্কিত কিছু তথ্য ও কৌশল দেওয়া হলো। আশা করছি লেখাটি আপনাদের সহায়ক হবে।

ভাইভা পরীক্ষার জন্য ড্রেস – কোডঃ

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট অফিসিয়াল ড্রেস কোড নেই । তবে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী এমন কোন কিছুই পরিধান করতে পারবেনা , যা একজন ভদ্রলোকের জন্য মানানসই নয় । অধুনা প্রযুক্তি ভিত্তিক কোম্পানিগুলোতে ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীর পোশাকে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন । যেখানে একজন কর্মকর্তাকে স্যাটেউ বুটেড হয়ে উপস্থিত হতে হবে এমন কোন কথা নেই । গতানুগতিক একজন কর্মীর কর্ম দক্ষতাটাই আসল । আমি একটি টেলিফোন কোম্পানীতে কিছুদিন চাকুরি করেছি । সেখানে সপ্তাহে ১ দিন যার যার পছন্দের ক্যাজুয়াল ড্রেস পরিধান করার নিয়ম ছিল । টেকনোলজি – বেড় কোম্পানীগুলোতে অনেক চাকুরী প্রার্থীই ভাইভাবোর্ডে টি – শার্ট জিন্সের প্যান্ট পরিধান করে চলে আসেন। দক্ষ টেকিদের ঐ পোশাকেই নির্বাচিত হতে দেখেছি । তবুও সারা বিশ্বেই সরকারি চাকুরিজীবীদের কাপড় চোপড় পরিধান করার কিছু প্রচলিত নিয়ম আছে ।

ছেলেদের পোশাক :

ক ) শীত – গ্রীষ্ম নির্বিশেষে ফর্মাল পেন্টের সাথে ফুলহাতা শার্ট ।

খ)পেন্ট – শার্টের কালারের সাথে যায় এমন কালারের জুতো ।

গ ) শীতকালে ফুলহাতা শার্টের উপর মার্জিত কালার এবং ডিজাইনের ব্রেজার বা স্যুয়েটার পড়তে পারেন ।

ঘ ) Closed Collar অর্থাৎ ‘ টাই ‘ পরিধান করা এমন কোন আহামরি স্মার্টনেস নয় । আগে থেকেই অভ্যস্ত থাকলে পড়তে পারেন , না থাকলে দরকার নেই । হঠাৎ করে ‘ টাই ‘ পড়লে আপনি অস্বস্তিবোধ করবেন । সারাক্ষণ ওটাতে আপনাকে কেমন দেখাচ্ছে এই ব্যাপারটাই মাথায় আসবে । পোশাকে স্বাচ্ছন্দ বোধ করা ভাইভা বোর্ডে আপনার জন্য এবং বোর্ড সদস্যদের জন্যও প্রীতিকর হবে।

ঙ ) লাল – হলুদ বা ক্যাট – ক্যাটে বা চোখে অস্বস্তি লাগে এমন কালারের কাপড় পরিধান করা এড়িয়ে চলুন।

চ ) সর্বজনীন ভালো লাগারমতো রংগুলো হচ্ছে কালো , সাদা , স্কাই – বু , অফ হোয়াইট ।

ছ ) কড়া গন্ধের সেন্ট বা আতর ব্যবহার করে বোর্ডে যাবেন না ।

ছেলেদের দাঁড়ি – গোফ ও চশমার ব্যাপরে দু – চার কথা:

আমার জানা মতে , ধর্মীয় কারণে দাঁড়ি রাখায় ভাইভা বোর্ডে কোন সমস্যা হয় না । দাঁড়ি রাখলে পেন্ট – শার্ট পড়তে পারেন আবার পায়জামা – পাঞ্জাবিও পরতে পারেন । আমি অনেককেই দেখেছি এতে কোন সমস্যা হয়নি । দিব্বি ভাইভা পরীক্ষা পাশ করে এখন চাকুরি করছেন । কোন ফ্যাশনেবল দাঁড়ি – গোফ , চিপ নিয়ে ভাইভা পরীক্ষা মোকাবেলা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। চুল অত লম্বা না রাখাই ভালো । আবার মিলিটারী কাট দিয়েও ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার দরকার নেই । বোর্ডে প্রবেশ করার কয়েক মিনিট আগে আপনার মাথার চুল একবার ঠিক করে নিন । যারা দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি বা অন্য কারণে চশমা পড়ে থাকেন তারা ভাইভা বোর্ডে চশমা পড়ে উপস্থিত হতে পারেন । সামান্য সমস্যা বা সৌখিন পড়ুয়াদের বোর্ডে চশমা পরে উপস্থিত হওয়ার দরকার নেই ।

মেয়েদের পোশাক :

মেয়েদের পোশাকের ক্ষেত্রে মার্জিত বাঙালি মেয়েদের পোশাকই নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ । এ ক্ষেত্রে মার্জিত রংয়ের সালোয়ার কামিজ এবং জামা পড়লেই ভালো হয় । শাড়িতে অভ্যস্ত না থাকলে হঠাৎ করে শাড়ি পড়ে গেলে অস্বস্তি লাগবে । বোরকা পড়ার অভ্যাস থাকলে কালো রংয়ের বোরকাই ধর্মীয় ভাব – গাম্ভীর্য প্রকাশ করে । ভাইভা বোর্ডে যেহেতু আপনার পরিচিতি নিশ্চিত করা হবে , তাই মুখে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা পরিচিতি নিশ্চায়নের পথে অন্তরায় । হিজাব পড়ায় অভ্যস্ত হলে ভাইভা বোর্ডে এতে সমস্যার কিছু নেই । শুধু মার্জিত রংয়ের দিকটা খেয়াল রাখবেন ।

* ভাইভাতে যেসব বেসিক প্রশ্ন হয়ে থাকে এবং মোকাবেলা করতে হবে। ভাইভাবোর্ডে ঠিক কোন প্রশ্নগুলো আপনাকে সিং থেকেই বলে দেওয়া মুশকিল । আসলে আপনি প্রধান দিতে পারলেন সেটা মুখ্য বিষয় নয় বরং কীভাবে উত্তরগুলো উপম করলেন সেটাই মুখ্য ।

‘ It is not what you say , it’s how you say it- because personality always wins the day ‘ .

তবুও আপনি যখন একটু ক্রিটিক্যাল প্রশ্নের উত্তর না পারবেন তখন আপনাকে কিছু বেসিক প্রশ্ন করে বোর্ডের সদস্যরা অংশপনকে উদ্ধার করতে চাইবে । বিভিন্ন সফল বিসিএস পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা নিজের বিভিন্ন চাকরির জন্য মোকাবেলা করা সকল অভিজ্ঞতা থেকে এবং ইন্টারনেট ঘেটে যে মৌলিক প্রশ্নগুলো মে নিন্মে লিপিবদ্ধ করছি । মনে রাখবেন , এই মৌলিক প্রানের গতানুগতিক উত্তর দিলে হবে না । এগুলোর উত্তর হতে হবে আগে থেকেই কাস্টমাইজ্‌ড করা অর্থাৎ নিজের মতো করে বক্সের বাইরের কিছু কিন্তু উপস্থাপন করা । যেমন -৯০ % ভাইভা বোর্ডেই প্রশ্ন করা হয় , ‘ আপনার নিজের সম্পর্কে বলুন ‘ বা ‘ আপনি কেন এই সার্ভিসে আসতে চান ’ বা ‘ আপনি কেন আগের চাকরিটি পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন ‘ এসব প্রশ্নের উত্তর মনের মতো করে সাজিয়ে লিখে কোন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে শুনিয়ে তৈরি করে রাখতে হবে মনে রাখবেন , এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সাবলিল প্রেজেন্টে স্টাইল দিয়েই আপনি অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে পারেন ।

বিসিএস পরীক্ষায় ভাইবা বোর্ডে প্রবেশের ড্রেস কোড কেমন হবে জানুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Scroll to top