সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
Home » বাংলায় তুর্কি শাসনের ইতিহাস ও সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

বাংলায় তুর্কি শাসনের ইতিহাস ও সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি

রাজা গণেশ ও হাবসি শাসন সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, বাংলার ইতিহাসের দুইশ' বছর (১৩৩৮-১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) মুসলমান সুলতানদের স্বাধীন রাজত্বের যুগ।

বাংলায় তুর্কি শাসনের ইতিহাস

বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি। এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত । এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরােপুরি স্বাধীন বলা যাবে না। তাদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযােদ্ধা খলজি মালিক, আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক। শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।

পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন। তবে তাঁদের বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন বুলগাকপুর’। এর অর্থ ‘বিদ্রোহের নগরী।

বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পর তাঁর সহযােদ্ধাদের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। তাঁর সহযােদ্ধা তিনজন খলজি মালিকের নাম জানা যায়। তাঁর হচ্ছেন- মুহম্মদ শিরান খলজি, আলি মর্দান খলজি এবং হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি। অনেকেরই ধারণা ছিল আলী মর্দান খলজি বখতিয়ার খলজির হত্যাকারী। এ কারণে খলজি আমির ও সৈন্যরা তাদের নেতা নির্বাচিত করেন মুহম্মদ শিরান খলজিকে।

তিনি কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। আলি মর্দান খলজিকে বন্দী করা হয়। পরে আলি মর্দান পালিয়ে যান এবং দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিনের সহযােগিতা লাভ করেন। শিরান খলজির শাসনকাল মাত্র এক বছর স্থায়ী ছিল। এরপর ১২০৮ খ্রিষ্টাব্দে দেবকোটের শাসনকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি। দিল্লির সহযােগিতায় দুই বছর পর ফিরে আসেন আলি মর্দান খলজি।

ইওজ খলজি স্বেচ্ছায় তাঁর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। আলি মর্দান খলজি ১২১০ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা ঘােষণা করেন এবং নিজের নাম নেন আলাউদ্দিন আলি মদাৰ্ন খলজি। খুব কঠোর শাসক ছিলেন তিনি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ক্রমে বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। খলজি মালিকরা একজোট হয়ে বিদ্রোহ করে। তাদের হাতে নিহত হন আলি মর্দান খলজি। ইওজ খলজি দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসেন।

তিনি এ পর্যায়ে গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নাম নিয়ে স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন। ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর তিনি বাংলার সুলতান ছিলেন।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি

সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নিঃসন্দেহে খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। বখতিয়ার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলার মুসলমান রাজ্যকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করতে তিনি সচেষ্ট হয়েছিলেন। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য তিনি রাজধানী দেবকোট থেকে গৌড় বা লখনৌতিতে স্থানান্তর করেন। রাজধানীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্য বসনকোট নামক স্থানে একটি দুর্গ নির্মাণ করা হয়। লখনৌতি নদীতীরে অবস্থিত হওয়ায় ব্যবসাবাণিজ্যের সুবিধা ছিল।

আরো পড়ুন :   গ্রিক সভ্যতা | সভ্যতায় গ্রিসের অবদান | গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্স

তাছাড়া ইওজ খলজি বুঝতে পেরেছিলেন যে শক্তিশালী, নৌবাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারােহী বাহিনীর পক্ষে নদীমাতৃক বাংলায় রাজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব হবে না। বাংলার শাসন বজায় রাখতে হলেও নৌবাহিনীর প্রয়ােজন ছিল। তাই বলা যায় যে, বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে ইওজ খলজিই নৌবাহিনীর গােড়াপত্তন করেছিলেন। রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য এর তিন পাশে গভীর ও প্রশস্ত পরিখা নির্মাণ করা হয়। বার্ষিক বন্যার হাত থেকে লখনৌতি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য তিনি বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন। তিনি রাস্তা নির্মাণ করে সৈন্য ও পণ্য চলাচলের সুবন্দোবস্ত করেন।

এ রাজপথ নির্মাণের ফলে রাজ্য শাসন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেরই শুধু সুবিধা হয়নি, বরং দেশের লােকের নিকট আশীর্বাদস্বরূপও ছিল। কারণ, তা বার্ষিক বন্যার কবল থেকে তাদের গৃহ ও শস্যক্ষেত্র রক্ষা করত। উপযুক্ত কার্যাবলি গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজিকে একজন সুশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি রাজ্য বিস্তারের দিকেও মনােনিবেশ করেন। পার্শ্ববর্তী হিন্দু, যেমন কামরূপ, উড়িষ্যা, বঙ্গ (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা) এবং ত্রিহুতের রাজারা তাঁর নিকট কর পাঠাতে বাধ্য হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল-নাসিরের নিকট থেকে সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি স্বীকৃতিপত্র লাভ করেছিলেন।

দিল্লির সুলতান ইলতুৎমিশ গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজির অধীনে লখনৌতির (বাংলা) মুসলমান রাজ্যের প্রতিপত্তি বিস্তার কখনও ভালাে চোখে দেখেননি। কিন্তু রাজত্বের প্রারম্ভে আশু বিপদ ও সমস্যার সমাধান করার পূর্বে বাংলার দিকে নজর দেয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। ১২২৪ খ্রিষ্টাব্দে বিপদসমূহ দূর হলে সুলতান ইলতুৎমিশ। বাংলার দিকে দৃষ্টি দেন। ১২২৫ খ্রিষ্টাব্দে মুঙ্গের কিংবা শরিগলি গিরিপর্বতের নিকট উভয় দলের সৈন্য। মুখােমুখি হলে ইওজ খলজি সন্ধির প্রস্তাব করেন।

উভয়পক্ষে সন্ধি হয়। ইলতুৎমিশ খুশি হয়ে মালিক আলাউদ্দিন জানিকে বিহারের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন এবং ইওজ খলজিকে বঙ্গের শাসক পদে বহাল রেখে দিল্লিতে ফিরে যান। কিন্তু সুলতান দিল্লিতে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইওজ খলজি পুনরায় স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। বিহার আক্রমণ করে সেখানকার শাসনকর্তা আলাউদ্দিন জানিকে বিতাড়ন করা হয়। ইওজ খলজি লখনৌতি ফিরে এসেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, ইলতুৎমিশ আবার বাংলা আক্রমণ করবেন।

তিনি প্রায় এক বছরকাল প্রস্তুতি নিয়ে রাজধানীতে অবস্থান করেন এবং পাল্টা আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করেন। এ সময় দিল্লির রাজকীয় বাহিনী অযােধ্যার বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ইওজ খলজি মনে করলেন এ অবস্থায় দিল্লি বাহিনীর পক্ষে বাংলা আক্রমণ করা সম্ভব হবে না। তাই তিনি এ অবসরে পূর্ববঙ্গ আক্রমণ করার মনস্থ করেন। রাজধানী লখনৌতি একপ্রকার অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। এদিকে, সুলতান ইলতুৎমিশ পুত্র নাসিরউদ্দিন মাহমুদকে লখনৌতি আক্রমণের নির্দেশ দেন।

আরো পড়ুন :   প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস | প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশ ও শাসন-ব্যবস্থা

ইওজ খলজির অনুপস্থিতির সুযােগ নিয়ে নাসিরউদ্দিন মাহমুদ বঙ্গের রাজধানী লখনৌতি আক্রমণ করেন। এ সংবাদ শােনার সঙ্গে সঙ্গে ইওজ খলজি অতি অল্প সংখ্যক সৈন্য সঙ্গে নিয়ে রাজধানীতে তাড়াতাড়ি ফিরে আসেন। শত্রুবাহিনী পূর্বেই তার বসনকোট দুর্গ অধিকার করেছিল। যুদ্ধে ইওজ খলজি পরাজিত ও বন্দী হন। পরে তাঁকে হত্যা করা হয় ।

ইওজ খলজির পরাজয় ও পতনের ফলে বঙ্গদেশ পুরােপুরিভাবে দিল্লির সুলতানের অধিকারে আসে। নাসিরউদ্দিন মাহমুদ বঙ্গদেশের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। ইওজ খলজি শিল্প ও সাহিত্যের একজন পৃষ্ঠপােষক ছিলেন। তাঁরই পৃষ্ঠপােষকতায় গৌড়ের জুমা মসজিদ এবং আরও কয়েকটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।

তাঁর আমলে মধ্য এশিয়া থেকে বহু মুসলিম সুফি ও সৈয়দ তাঁর দরবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এ সমস্ত সুফি ও সুধীগণ বঙ্গদেশে ইসলাম প্রচারে যথেষ্ট সহায়তা করেন। তাদের আগমন ও ইওজ খলজির পৃষ্ঠপােষকতায় লখনৌতি মুসলমানদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত
হয়। ইওজ খলজির মৃত্যুর পর থেকে ১২৮৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ষাট বছর বাংলা দিল্লির মুসলমান শাসকদের একটি প্রদেশে পরিগণিত হয়। এ সময় পনেরাে জন শাসনকর্তা বাংলা শাসন করেন। তাঁদের দশজন ছিলেন দাস। দাসদের মামলুক’ বলা হয়।

এ কারণে ষাট বছরের বাংলার শাসনকে অনেকে দাস শাসন বা মামলুক শাসন বলে অভিহিত করেন। কিন্তু এ যুগের পনেরােজন শাসকের সকলেই তুর্কি বংশের ছিলেন। তুর্কি শাসকদের সময়ে দিল্লিতে অভ্যন্তরীণ গােলযােগ চলছিল । সুতরাং বাংলার মতাে দূরবর্তী প্রদেশের দিকে সুলতানদের মনােযােগ দেওয়ার সুযােগ ছিল না। পরিণামে বাংলার তুর্কি শাসকরা অনেকটা স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করতেন। ১২২৯ খ্রিষ্টাব্দে নাসিরউদ্দিন মাহমুদ মৃত্যুবরণ করলে অল্প সময়ের জন্য বাংলায় ক্ষমতায় বসেন দওলত শাহ-বিন-মওদুদ।

বাংলার অর্থাৎ লখনৌতির প্রথম তুর্কি শাসনকর্তা ছিলেন নাসিরউদ্দিন মাহমুদ। তিনি ছিলেন দিল্লির সুলতান ইলতুৎমিশের পুত্র । ১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান ইলতুৎমিশের মৃত্যু হলে দিল্লিতে গােলযােগ দেখা যায়। এ সুযােগে আওর খান আইবক লখনৌতির ক্ষমতা দখল করে নেন। কিন্তু অল্পকাল পরেই বিহারের শাসনকর্তা তুঘরল তুঘান খানের হাতে তার পরাজয় ঘটে । তুঘান খান ১২৪৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত নয় বছর বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন। এরপর দুই বছরের জন্য লখনৌতির ক্ষমতায় বসেন ওমর খান।

আরো পড়ুন :   মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস | বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা

১২৪৭ থেকে ১২৫১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন জালালউদ্দিন মাসুদ জানি। তিনি লখনৌতিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। পরবর্তী শাসক ছিলেন অযােধ্যার শাসনকর্তা মালিক ইখতিয়ার উদ্দিন ইউজবক। যথেষ্ট শক্তি সঞ্চয় করার পর মাসুদ জানি ১২৫৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘মুঘিসউদ্দিন’ উপাধি ধারণ করে স্বাধীনতা ঘােষণা ও করেন । তিনি ১২৫৭ খ্রিষ্টাব্দে নিহত হন।

পরবর্তী দুই বছর লখনৌতি স্বাধীনভাবে শাসন করেন মালিক উজ্জউদ্দিন ইউজবক। পরে ১২৬৯ খ্রিষ্টাব্দে কারা প্রদেশের শাসনকর্তা তাজউদ্দিন আরসালান খান লখনৌতির সিংহাসনে বসেন। আরসালান খানের পর বাংলার শাসনকর্তা হন তাতার খান। তিনি দিল্লির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলেও কয়েক বছরের মধ্যে দিল্লির সাথে বাংলার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

তাতার খানের পর অল্পদিনের জন্য বাংলার ক্ষমতার বসেছিলেন শের খান। পরবর্তী শাসনকর্তা তুঘরিল ছিলেন মামলুক তুর্কিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ । উত্তর এবং পশ্চিম বাংলা ছাড়াও ঢাকা এবং ফরিদপুরের বেশ কিছু অঞ্চল তিনি অধিকারে আনেন। সােনারগাঁয়ের নিকট তিনি নারকেল্লা নামে এক দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। সাধারণ মানুষের কাছে দুর্গটি তুঘরিলের কেল্লা নামে পরিচিত ছিল।

তুঘরিল মুঘিসউদ্দিন’ উপাধি নিয়ে বাংলার স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। ফলে দিল্লির সুলতান বলবন এ বিদ্রোহের শাস্তি দিতে বাংলা আক্রমণ করেন। ১২৮১ খ্রিষ্টাব্দে বলবনের হাতে পরাজিত ও নিহত হন তুঘরিল । বাংলার শাসনকর্তারা বিদ্রোহ করেন এ কারণে বলবন তার ছেলে বুঘরা খানকে বাংলার গভর্নর হিসেবে নিয়ােগ করেন। পরবর্তী ছয় বছর বাংলা দিল্লির অধীনে ছিল।

১২৮৭ খ্রিষ্টাব্দে বলবনের মৃত্যুর পর বুঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ’ নাম নিয়ে স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করতে থাকেন। এ সময় দিল্লির সুলতান ছিলেন বুঘরা খানের ছেলে কায়কোবাদ। কায়কোবাদের মৃত্যুসংবাদে বুঘরা খানের মন ভেঙে যায়। তিনি তাঁর অন্য পুত্র রুকনউদ্দিন কায়কাউসকে বাংলার সিংহাসনে বসিয়ে নিজে সরে যান।

কায়কাউস (১২৯১-১৩০০ খ্রিষ্টাব্দ) দশ বছর বাংলার শাসক ছিলেন। তাঁর কোনাে ছেলে না থাকায় পরবর্তী শাসনকর্তা হন মালিক ফিরুজ ইতগিন । তিনি সুলতান হিসেবে নতুন নাম ধারণ করেন সুলতান শামসুদ্দিন ফিরুজ শাহ’। ফিরুজ শাহের মৃত্যু হলে পুত্র গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন। অল্পকাল পরেই দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের হাতে তিনি পরাজিত ও বন্দী হন। এরপর থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা দিল্লির অধীনে ছিল।

আরো পড়ুন

প্রাচীন বাংলার জনপদ | বাংলাদেশের ভৌগােলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব

Bcs Preparation

রাজা গণেশ ও হাবসি শাসন এবং পরবর্তী ইলিয়াস শাহি বংশের শাসন

Bcs Preparation

মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস

Bcs Preparation