ডিসেম্বর মাসের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস ও প্রতিপাদ্য বিষয়

দক্ষিণ বাংলার মানুষের স্বপ্নের পায়রা সেতু

২৪ অক্টোবর ২০২১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দক্ষিণ বাংলার মানুষের স্বপ্নের পায়রা সেতু উদ্বোধন করেন। সেতুটি ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালীকুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী এলাকার খরস্রোতা।

পায়রা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়। সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সঙ্গে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত ফেরিবিহীন যােগাযােগ বা পথ উন্মােচন হয়।

আধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিক নকশা

নদীর দুই পাড়ে দুটি ও নদীর মধ্যে একটি মােট তিনটি পিলারের ওপর নির্মিত হয়েছে পায়রা সেতু। নদীর তলদেশে বসানাে হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল, যা দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট – পাইলসহ ১০টি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত। এ ছাড়া সেতুটিতে ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে।

নদীর মাঝখানে একটিমাত্র পিলার ব্যবহার করা হয়েছে। জলতল থেকে সেতুটির উচ্চতা নদীর ১৮.৩০ মিটার ওপরে। বাতি জ্বলবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে চার লেনবিশিষ্ট সেতুটি নির্মিত হয়েছে এক্সট্রাডােজড ক্যাবল স্টেইড প্রযুক্তিতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর শাহ আমানত সেতুও এই প্রযুক্তিতে নির্মিত।

বিশেষ বৈশিষ্ট্য ভূমিকম্পের মতাে দুর্যোগ থেকে সেতুকে নিরাপদ রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে “ব্রিজ হেলথ মনিটর’ (সেতুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণব্যবস্থা) ভূমিকম্প কিংবা বজ্রপাতের মতাে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ প্রযুক্তি তা জানিয়ে দেবে। সেতুর ক্ষতি হতে পারে এমন অতিরিক্ত ভারী যানবাহন সেতুতে উঠলেও বেজে উঠবে বিপদ সংকেত।

Fact File

  • একনেকে প্রকল্প অনুমােদন : ৮ মে ২০১২।
  • ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : ১৯ মার্চ ২০১৩।
  • নির্মাণ কাজ শুরু: ২৪ জুলাই ২০১৬।
  • নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান : Longjian Road and Bridge Construction, চীন।
  • যে নদীর ওপর নির্মিত : পায়রা নদী দৈর্ঘ্য ১,৪৭০ মি. ও প্রস্থ ১৯.৭৬ মি.।
  • সংযােগ সড়কের দৈর্ঘ্য : ১২৬৮ মিটার, সংযােগ সড়কের প্রস্থ ২২.৮০ মিটার।
  • মােট লেন : ৪টি
  • স্প্যান : ৩২টি।
  • পাইল : ৩৩৮টি— মূল সেতুর পাইল ৫২টি আর গভীরতম পাইলের দৈর্ঘ্য ১৩০ মিটার, যার সংখ্যা ৪০টি ।
  • পিয়ার : ৩১টি।
  • নির্মাণ ব্যয় : ১,৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
  • অর্থায়নে : সেতুর ৮২ ভাগ অর্থায়ন করে Kuwait Fund for Arab Economic Development (KFAED) OPEC Fund for International Development (OPEC Fund) এবং বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করে।
Scroll to top