রাষ্ট্র কাকে বলে
Home » একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা | একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দোষ | ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র
পৌরনীতি ও নাগরিকতা

একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা | একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দোষ | ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র

একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা : একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এতে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত। থেকে একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তাকে বলা হয় একনায়ক বা ডিকটেটর। একনায়কতান্ত্রিক শাসককে সহায়তা করার জন্য মন্ত্রী বা উপদেষ্টা পরিষদ থাকে। কিন্তু তারা শাসকের আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলে। একনায়কের আদেশই আইন। এ ব্যবস্থায় শাসকের কারও কাছে জবাবদিহিতা থাকে না। এতে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে।

এই দলের নেতাই সরকারপ্রধান। তার ইচ্ছা অনুযায়ী দল পরিচালিত হয় এবং তার অন্ধ অনুসারীদের নিয়ে দল গঠিত হয়। একনায়কতন্ত্রে গণমাধ্যমগুলাে (রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ইত্যাদি) নেতা ও তার দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এগুলাে নিরপেক্ষভাবে ব্যবহারের সুযােগ দেওয়া হয় না। বরং সরকারি দলের গুণকীর্তনে ব্যবহৃত হয়। এ সরকারব্যবস্থায় আইন ও বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। একনায়কের ইচ্ছা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও বিচারকাজ সম্পন্ন করা হয়। এক জাতি, এক দেশ,এক নেতা একনায়কতন্ত্রের আদর্শ। এতে মনে করা হয়, সবকিছু রাষ্ট্রের জন্য, এর বাইরে বা বিরদ্ধে কিছু নয়।

একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দোষ

একনায়কতন্ত্র চরম স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থা। এর দোষগুলাে নিমরূপ।

  • গণতন্ত্রবিরােধী : একনায়কতন্ত্র গণতন্ত্র বিরােধী। এটি ব্যক্তি-স্বাধীনতাকে স্বীকার করে না, যা গণতন্ত্রের মূল কথা। এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করে। ফলে ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
  • স্বৈরাচারী শাসন : একনায়কতন্ত্র স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করে। কারণ একনায়ককে কারও নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। তার কথাই আইন। এতে ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মুক্ত বুদ্ধি চর্চার সুযােগ নেই। একনায়কতন্ত্র বস্তুত একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ।
  • নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টির অন্তরায় : এ শাসনব্যবস্থা একক নেতার নেতৃত্বে চলে বলে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠার সুযােগ থাকে না । আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণের সুযােগ না থাকায় রাজনৈতিক সচেতনতাও তৈরি হয় না ।
  • বিপ্লবের সম্ভাবনা : এ শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ নেই বলে সর্বদা বিপ্লবের ভয় থাকে। অভ্যন্তরীণ বিরােধিতা ও গণ-অসন্তোষের কারণে একনায়কতন্ত্র বেশি দিন টিকতে পারে না।
  • বিশ্বশান্তির বিরােধী : একনায়কতন্ত্রে উগ্র জাতীয়তাবােধ ধারণ ও লালন করা হয়। ক্ষমতার লোভ একনায়কের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনােভাব সৃষ্টি করে। হিটলার এ ধরনের মনােভাব পােষণ করে সারা পৃথিবীতে ধ্বংস ডেকে এনেছিলেন। এ ধরনের মনােভাব আন্তর্জাতিক শান্তির পরিপন্থী ।

একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের বেদীমূলে উৎসর্গ করে । এখানে ব্যক্তি রাষ্ট্রের জন্য, রাষ্ট্র ব্যক্তির জন্য নয়। তাই বর্তমান বিশ্বে কোনাে রাষ্ট্র একনায়ককে সমর্থন করে না।

ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র

রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই ধরনের হয়। যথা- এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্র।

এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র

এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল শাসনতান্ত্রিক ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়। ফলে কেন্দ্র থেকে দেশ পরিচালনা করা হয়। শাসনকার্যের সুবিধার জন্য দেশকে বিভিন্ন প্রদেশে বা অঞ্চলে ভাগ করে কিছু ক্ষমতা তাদের হাতে অর্পণ করা হয়। তবে প্রয়ােজনবােধে কেন্দ্রীয় সরকার সে ক্ষমতা ফিরিয়ে নিতে পারে। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারগুলাে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থেকে কেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য প্রভৃতি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের উদাহরণ।

যুক্তরাষ্ট্র

যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ মিলিত হয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন করে, তাকে যুক্তরাষ্ট্র বলে । এ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের শাসনকার্যের সুবিধার জন্য সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশ বা অঞ্চলের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পাশাপাশি অবস্থিত কতগুলাে ক্ষুদ্র অঞ্চল বা প্রদেশ একত্রিত হয়ে একটি বড় রাষ্ট্র গঠন করে বলে রাষ্ট্রটি শক্তিশালী হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার সম্পদ আহরণ করে একটি বৃহৎ অর্থনীতি গঠনপূর্বক রাষ্ট্রকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই * বিশ্বের সকল যুক্তরাষ্ট্রই কম-বেশি উন্নত। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্র ।

উত্তরাধিকার সূত্রের ভিত্তিতে রাষ্ট্র

বিশ্বের কোনাে কোনাে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা লাভ করে। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বলা হয় রাজতন্ত্র। রাজতন্ত্রে রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানী হয়ে থাকে। রাজতন্ত্র দুই ধরনের, যথা- নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র ।

নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র : এ ধরনের রাষ্ট্রে রাজা বা রানী রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এতে শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণের সুযােগ নেই। বর্তমান বিশ্বে এ ধরনের রাষ্ট্রের সংখ্যা নগণ্য। সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।

নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র : এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রের রাজা বা রানী উত্তরাধিকার সূত্রে বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন। কিন্তু তিনি সীমিত ক্ষমতা ভােগ করেন। রাষ্ট্রের প্রকৃত শাসন ক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে। যুক্তরাজ্যে (গ্রেট ব্রিটেন) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে।

উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র

যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে, তাকে বলা হয় কল্যাণমূলক রাষ্ট্র। এ ধরনের রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযােগ সৃষ্টি করে, বেকার ভাতা প্রদান করে, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, নরওয়ে ইত্যাদি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উদাহরণ। এ ধরনের রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হলাে

  • রাষ্ট্র সমাজের মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে । রাস্তাঘাট, এতিমখানা, সরাইখানা, খাদ্য ভর্তুকি প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। বেকার ভাতা, অবসরকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে।
  • সচ্ছলদের উপর উচ্চহারে কর ধার্য করে ও কম সচ্ছলদের উপর কম কর ধার্য করে দরিদ্র ও দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে ।
  • কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের স্বার্থরক্ষার জন্য ন্যূনতম মজুরির ব্যবস্থা করে তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে।
  • সমবায় সমিতি গঠন ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করে কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে।

Related Posts

পৌরনীতি ও নাগরিকতা | পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের পরিসর বা বিষয়বস্তু

Bcs Preparation

রাষ্ট্র কাকে বলে ও আধুনিক রাষ্ট্র কাকে বলে? | রাষ্ট্রের উৎপত্তি

Bcs Preparation

নাগরিকের কর্তব্য | কর্তব্যের শ্রেণিবিভাগ | অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক

Bcs Preparation

তথ্য অধিকার আইন | তথ্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়া | তথ্য প্রদান পদ্ধতি

Bcs Preparation

আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকারের শ্রেণিবিভাগ

Bcs Preparation

সাম্য ও স্বাধীনতা | স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ | আইন ও স্বাধীনতা | সাম্যের বিভিন্ন রূপ | সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক

Bcs Preparation

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More