পৌরনীতি ও নাগরিকতা

উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের কোনাে না কোনাে সংবিধান রয়েছে। যে রাষ্ট্রের সংবিধান যত উন্নত, সে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ততটা উত্তমভাবে পরিচালিত হয়। উত্তম সংবিধানের নিমােক্ত বৈশিষ্ট্যগুলাে রয়েছে ।

সুস্পষ্ট :

উত্তম সংবিধানে অধিকাংশ বিষয় লিখিত থাকে। এ সংবিধানের ভাষা সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল হয়। এ কারণে উত্তম সংবিধান সকলের নিকট সুস্পষ্ট ও বােধগম্য হয়।

সংক্ষিপ্ত :

উত্তম সংবিধান সংক্ষিপ্ত প্রকৃতির। অপ্রয়ােজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উত্তম সংবিধানে স্থান পায় না। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উল্লেখযােগ্য বিধিবিধানগুলাে এ সংবিধানে উল্লেখ থাকে।

আরো পড়ুন :

মৌলিক অধিকার :

নাগরিকের মৌলিক অধিকার উত্তম সংবিধানে উল্লেখ থাকে। এর ফলে জনগণ তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। তাছাড়া শাসক বা অন্য কেউ এ অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

জনমতের প্রতিফলন :

উত্তম সংবিধান জনমতের ভিত্তিতে প্রণীত হয়। এ সংবিধানে জনগণের চাহিদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। তাছাড়া সামাজিক রীতি-নীতি ও ঐতিহ্য এ সংবিধানে প্রতিফলিত হয়।

সুষম প্রকৃতির :

উত্তম সংবিধান সুষম প্রকৃতির। এর অর্থ, উত্তম সংবিধান পরিবর্তনীয় ও দুস্পরিবর্তনীয় সংবিধানের মাঝামাঝি অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি খুব সুপরিবর্তনীয় কিংবা খুব বেশি দুষ্পরিবর্তনীয় নয়। এর ফলে উত্তম সংবিধান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম।

সংশােধন পদ্ধতি :

উত্তম সংবিধানের কোনাে ধারার সংশােধন বা পরিবর্তন নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়। অর্থাৎ এ সংবিধানে সংশােধন পদ্ধতি উল্লেখ থাকে। সংবিধানের কোন অংশ কীভাবে সংশােধন করা হবে তা উত্তম সংবিধানে উল্লেখ থাকে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি :

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি উত্তম সংবিধানে উল্লেখ থাকে। যেমন বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

জনকল্যাণকামী :

দার্শনিক রুশাে বলেছেন, যে আইনে মানুষের কল্যাণ নাই তা উত্তম সংবিধান হতে পারে না। সুতরাং উত্তম সংবিধান হবে জনকল্যাণকামী।

কোনাে সংবিধানে উপরে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলাে থাকলে তাকে উত্তম সংবিধান বলা যাবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button